August 22, 2026, 1:58 pm

ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার কোন সম্ভাবনা নেই: হাইকমিশন

ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার কোন সম্ভাবনা নেই: হাইকমিশন

গত দুই বছর ভারতের অভ্যান্তরীণ বাজারে চাহিদা ও পেঁয়াজের ক্ষতি হওয়ায় রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল দেশটি। পেঁয়াজ রপ্তানিতে এ বছরও ভারত নিষেধাজ্ঞা দেবে এমন খবরে দেশে গত দুই সপ্তাহে দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। তবে এ বছর দেশটি পেঁয়াজ রপ্তানিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে না। নয়াদিল্লীর বাংলাদেশের হাইকমিশন অফিসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর ড. একেএম আতিকুল হক সম্প্রতি বাণিজ্য সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এমন তথ্য দিয়েছেন।

চাহিদার ৮০ ভাগ পেঁয়াজ দেশেই উৎপাদন হয়। তবে উৎপাদিত পেঁয়াজের এক-চতুর্থাংশ পচে নষ্ট হওয়ার কারণে প্রতি বছর গড়ে ১০ লাখ টন আমদানি করতে হয়। আমদানি পেঁয়াজের ৯৫ শতাংশই আসে ভারত থেকে। তবে কোনো আগাম নোটিশ না দিয়ে ২০১৯ ও ২০২০ সালে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশটির বাণিজ্য দপ্তর।

এতে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যটির সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়। আর এ ঘাটতিকে পুঁজি করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী পণ্যটির সরবরাহে কৃত্রিম সংকট তৈরি ও ইচ্ছেমাফিক দাম বড়িয়ে দেয়। যা ভোক্তার ক্রয়-ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। এতে সরকারকেও চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো কমার্শিয়াল কাউন্সিলরের চিঠিতে বলা হয়, এ বছর পরিস্থিতি ভিন্নরকম। দেশটির পেঁয়াজ উৎপাদনকারী বিভিন্ন রাজ্যে গত ২০১৯-২০ মৌসুমের তুলনায় বিদায়ী ২০২০-২১ মৌসুমে উৎপাদন ২০ লাখ টন বেশি হয়েছে। অর্থাৎ এবার ভারতে পেঁয়াজের বাম্পার স্টক রয়েছে। নেই সরবরাহেও সংকট।

এ কারণে নয়াদিল্লী, নাসিক, মুম্বাই, কলকাতা ও বেঙ্গালুরুসহ সবকটি পাইকারি মার্কেট এখন পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বিভিন্নস্তরে রপ্তানিমানের প্রতি ১০০ কেজি পেঁয়াজের পাইকারি দাম এখন ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ রুপির মধ্যেই রয়েছে।

আরও জানানো হয়, কর্ণাটক জাতের গোলাপ পেঁয়াজ এখন বাজারে। পরবর্তী ফসল, খরিপ পেঁয়াজ আসবে অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে। একবার খরিফ পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করলে পেঁয়াজের দাম ভারতে বর্তমানের তুলনায় আরও কমে যাবে।

খরিপ পেঁয়াজ সংগ্রহের মৌসুম চলবে ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর বাজারে গড়াবে লেট খরিফ পেঁয়াজ। যার কাটা শুরু হবে জানুয়ারি থেকে এবং চলবে একটানা মার্চ পর্যন্ত। তারপরই আসবে ভারতে পেঁয়াজ উৎপাদনের সবচেয়ে বড় মৌসুম রবি পেঁয়াজ সংগ্রহের সময়। এ জাতের পেঁয়াজ মাঠ থেকে বাজারে গড়ায় মার্চ ও এপ্রিলে। উৎপাদনপ্রাপ্যতা বিবেচনায় যার অংশীদারিত্ব ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। এর জীবনকালও দীর্ঘতম। সাধারণত ৫ থেকে ৬ মাসের চাহিদা রবি পেঁয়াজ দিয়েই চলে যায়। এমন পরিস্থিতিতে চলতি বছর পেঁয়াজ রপ্তানিতে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা ভারতের সরকারের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।

নয়াদিল্লিস্থ হাই কমিশন অফিসের তথ্যমতে, ২০১৯-২০২০ মৌসুমে ভারতে ২ কোটি ৬০ লাখ ৯০ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছিল। এর সঙ্গে বাফার স্টক তৈরির জন্য ভারতের সরকারি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে আরও ২ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছিল। যার থেকে কয়েক হাজার টন ব্যবহার হয়েছে এবং বাকিটা বাফার মজুদ হিসেবে রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার থেকে জানানো হয়েছে, এই বছর পেঁয়াজ উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বাড়বে।

ভারতের কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্বৃতি দিয়ে বলা হয়, ২০২০-২১ মৌসুমে ২ কোটি ৬২ লাখ ৯০ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদনের মাইল ফলক ছুঁতে যাচ্ছে ভারত। সেই সঙ্গে ২০২১-২২ মৌসুমের ফলন এখন মাঠে রয়েছে।

বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলেছে, দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ গত ৯ মাস চাহিদা মেটানোর পর বর্মানে গত ৯ অক্টোবর পর্যন্ত উৎপাদনকারী প্রধান ৯টি জেলায় ৪ লাখ ২১ হাজার ৪২৪ টনের মজুদ রয়েছে। তাও নভেম্বরের মাঝামাঝি কিংবা শেষ দিকে দেশেও বাজার গড়াবে দেশি পেঁয়াজ। এর সঙ্গে বাড়তি সহায়তা হিসেবে যোগ হয়েছে বা হওয়ার পথে আরও প্রায় ৪ লাখ টন পেঁয়াজ। নতুন করে প্রায় প্রতিদিনই আরও পেঁয়াজ আমদানির এলসি খোলা হচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বলছে, গত সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দেশে প্রায় ৩ লাখ ৭১ হাজার টন পেয়াজ আমদানির এলসি খোলা হয়েছে, যার থেকে ২ লাখ ৭৬ হাজার ২১৯ টন পেঁয়াজের আমদানি নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ এ পরিমাণ পেঁয়াজ বাজারে গড়িয়েছে। এর মানে হচ্ছে দেশে পেঁয়াজের নতুন ফলন ওঠার আগ পর্যন্ত সরবরাহ এবং দাম দুটোই স্বাভাবিক থাকার কথা।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com